শিরোনাম
লেখক ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য রিফাত মাহবুব সাকিবকে  বিশেষ সম্মাননা ও পুরুষ্কার প্রদান করা হয়     মানুষ আমাকে নিয়ে কী ভাবছে, এসব দুশ্চিন্তা অহেতুক: তামান্না     আল্লাহর ভালোবাসা পেতে মুমিন যে দোয়া পড়বেন     দুশমনের মোকাবেলায় যে দোয়া পড়বেন     কারিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙনে রহস্যময় জবাব শহিদ কাপুরের     নিজের পর্নকাণ্ড দিয়েই অভিনয়ে নাম লেখাচ্ছেন শিল্পার স্বামী?     নিজের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন রানি মুখার্জী     শাকিবকে সুপারস্টার হিসেবে দেখেন না নিশো!     স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে না খেয়ে ৮ দিনের শিশুর মৃত্যু     ডাকাতি করতে গিয়ে শ্বশুরকে গুলি করে হত্যা: জামাতাসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড    

আগের রূপে ফিরে এলো দেশের দ্বিতীয় সোনামসজিদ স্থল বন্দর

এস এম রুবেল | ০৯:৪৩ মিঃ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯



 আমদানি রপ্তানিকারক সোনামসজিদ স্থলবন্দর এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার সচল অবস্তায় ফিরে এলো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর। অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক এ স্থল বন্দর আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার ফলে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কোটি কোটি টাকা। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছিল হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এ বন্দরে প্রধান আমদানিকৃত পণ্য তালিকায় রয়েছে ভারতীয় পাথর। সোনামসজিদ স্থল বন্দরের আমদানীকারক ব্যাবসায়ী শাহিন আলী জানান, সোনামসজিদ স্থল বন্দরের প্রায় সকল ভ্যাট অপারেটরই পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড পাথর আমদানীতে ট্যারিফ(শুল্ক) বাড়িয়ে দেয়ায় আমদানীকারকরা পাথর আমদানী বন্ধ রেখেছিল। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে দু'শত পঞ্চাশ ট্রাক পাথর আমদানি হয় বলে সুত্রে জানা যায়। সরকারি রাজস্ব ছাড়া ট্রাক প্রতি বন্দর ট্যারিফ হিসেবে পুর্বে ৭৮৩ টাকা পরিশোষ করছিল আমদানিকারকরা। কিন্তু হঠাৎ করেই ট্যারিফ বৃদ্ধি করে টন প্রতি আরও ১৬২ টাকা বার্তি নির্ধারণ করেছিলেন পানামা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে আমদানিকারক ব্যাবসায়ীগণ ও পানামা কর্তৃপক্ষ।বৈঠক শেষে পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়া ১৭ নভেম্বর থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয় ব্যাবসায়ীগণ। সোনামসজিদ স্থল বন্দর আমদানী-রপ্তানীকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, বন্দর চালুর পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখেনি পানামা। উল্টো বন্দরের অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তাদেরকে বাইরে মালামাল খালাস করতে হয়। তিনি বলেন, ভারতের মোহদীপুর প্রান্তে অতিরিক্ত খরচ, ডাম্পিং, পাথরের গুণগতমান নিম্ন, ধুলাবালি মিশ্রিত পাথর, একাধিক সাইজের মিশ্রিত পাথরসহ নানা অসুবিধায় এতদিন চরম বেকায়দায় ছিলেন আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা। এপরিস্থিতিতে পাথর না আসায় আমদানিকারকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তেমনি সরকারও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছেন। স্থল বন্দরের আমদানীকারকদের অভিযোগ,ছিল ভারতের মোহদীপুরের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ভারতের মালদা জেলার শুশ্বতানী মোড় এলাকায় পাথর ডাম্পিং এরিয়া থেকে ১৬ কিলোমিটার দুরত্বের সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পাথরবাহী ট্রাকের জন্য আমদানীকারকদের গুনতে হয় ৩৫/৪০ হাজার ভারতীয় রুপী। যা অস্বাভাবিক বলে আমদানীকারক ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস। তারা জানান, ফিটনেস বিহীন, লক্কর-ঝক্করও মার্কা মেয়াদ উত্তীর্ণ ভারতীয় ট্রাকে পাথর নিয়ে আসে তারা। ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলে রাস্তায় পড়ে থাকে ১৫/২০ বা তার চেয়েও বেশী দিন, এতে জটিল ভোগান্তিতে শ্রমিক ব্যাবসায়ী উভয়েই। সোনামসজিদ স্থল বন্দরের মূল আমদানীকৃত পন্য পাথর না আসায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন স্থলবন্দরের পেশাজীবী সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী। বন্দর শ্রমিকরা জটিলতায়, তাদের দিন কাটাচ্ছিলো অলস ও অনাহারে, অর্ধাহারে। সোনাসমজিদ স্থল বন্দর শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান জানান, পাথর আমদানীতে পানামা কর্তৃপক্ষ্যের সঙ্গে আমদানীকারকদের শুল্ক জটিলতার পাশাপাশি ভারতের মোহদীপুর শুল্ক ষ্টেশনে ট্রাক পার্কিং জোন দখল নিয়ে ব্যবসায়ীদের মত বিরোধ দেখা দেয়ায় সোনামসজিদে ব্যবসা শুন্য হয়ে পড়েছিল। প্রায় এক মাস ধরে কর্মহীন থাকায় কুলি-শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছিল। প্রায় বেশিরভাগ ভেট অপারেটর পানামা-সোনামসজিদ পোর্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মইনুল ইসলাম জানান, ট্যারিফ সংযোজন পানামার নিজস্ব কোনো বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এর উপর রয়েছে ভারতের মোহদীপুর শুল্ক ষ্টেশনের রপ্তানীকারক ও ব্যবসায়ীদের ট্রাক পার্কিং জোনের দখল নিয়ে জটিলতা বাংলাদেশ- ভারত চেম্বার অব কর্মাসের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সমস্যাকে দুই দেশের জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করে চলমান জটিলতা উত্তোরণে মালদা’র জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কাষ্টমস কমিশনার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুরুপ কর্মকর্তার সমন্বয় জরুরী বলে তিনি মনে করেন। পরে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের একটি দল ভারতের পশ্চিম বাংলার মালদাহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ফিরে এসে সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় পাথর রপ্তানিকারক ব্যাবসায়ীরা তিনদিন সময় নিয়েছেন। এই তিনদিনের মধ্যে রপ্তানিকারকেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শেষে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে পুনরায় আলোচনা করে পাথর আমদানির জটিলতা নিরসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ভারত বাংলাদেশ বৈঠক শেষে ব্যাক্তিবর্গ ১১জন জানিয়েছেন। ওদিকে ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে শত শত পাথরভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৭/১২/১৯ মঙ্গলবার সোনামসজিদ মহাদিপুর স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক কার্যকম স্বাভাবিক রাখার উভয় দেশের ব্যক্তিগনকে নিয়ে বাংলাদেশ ভারত যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, সোনামসজিদ স্থলবন্দর এ্যাসোসিয়েসন গ্রুপের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌফিকুর রহমান বাবু, উপদেষ্টা মোঃ একরামুল হক, ও আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মামুনুর রশিদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ নুর আমিন,কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুন,আরো কমেটির সদ্যস বৃন্দ। ভারতের মহাদিপুর এক্সপোর্ট এ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি শ্রী নিখীল ঘোস,সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রসেনজিৎ ঘোষ, মোঃ ফজলুল হক, শ্রী সুকুমার শাহ, শ্রী হৃদয় ঘোষ। কলের সম্মিলিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এইযে পূর্বের ন্যায় স্থল বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত থাকবে


Designed & Developed by TechSolutions Plex Ltd.