শিরোনাম
লেখক ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য রিফাত মাহবুব সাকিবকে  বিশেষ সম্মাননা ও পুরুষ্কার প্রদান করা হয়     মানুষ আমাকে নিয়ে কী ভাবছে, এসব দুশ্চিন্তা অহেতুক: তামান্না     আল্লাহর ভালোবাসা পেতে মুমিন যে দোয়া পড়বেন     দুশমনের মোকাবেলায় যে দোয়া পড়বেন     কারিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙনে রহস্যময় জবাব শহিদ কাপুরের     নিজের পর্নকাণ্ড দিয়েই অভিনয়ে নাম লেখাচ্ছেন শিল্পার স্বামী?     নিজের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন রানি মুখার্জী     শাকিবকে সুপারস্টার হিসেবে দেখেন না নিশো!     স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে না খেয়ে ৮ দিনের শিশুর মৃত্যু     ডাকাতি করতে গিয়ে শ্বশুরকে গুলি করে হত্যা: জামাতাসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড    

ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর উদ্যোগে জলবায়ু বিপর্যয় মানববন্ধন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মাদারগঞ্জ জামালপুর থেকে | ০৯:৫৬ মিঃ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯



থেকে শুক্রবার বিকালে জামালপুর শহরের তমাল তলা মোড়ে ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ  জামালপুর শাখার উদ্যোগে জলবায়ু বিপর্যয় বিষয়ক মানব বন্ধন করা হয়।      এবং সর্বাত্মক সহযোগীতায়  সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ সংগঠন Fridays For Future - Bangladesh. action .....No more excuse ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ। 
সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের ইনিশিয়েটিভ অব অরগানাইজিং বিভাগের সহ: পরিচালক ফারিহা সুলতানা (অমি),ব্রাইটার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশেরজামালপুর ব্রাঞ্চ এর প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাক আহম্মেদ (সাগর) ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী বৃন্দু ও অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বৃন্দ।
 গরম আর গরম। অসহ্য গরম। চৌদ্দ পুরুষে এ রকম গরম পড়েনি। এসব বয়ান শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে লাখ কোটি মানুষের মুখ থেকে নিঃসৃত। ২০১৭ সালের গ্রীষ্মকালে গোটা জাতি গরমে অস্থির হয়ে পড়ে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। বৃষ্টিহীন রৌদ্র খরতাপে তাপমাত্রা বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত। দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুররা। বাসাবাড়ি ছেড়ে অনেককে বেড়িয়ে আসতে দেখা যায় গাছতলায়। বর্তমানে বর্ষাকাল চলছে। মধ্য আষাঢ়। তারপরও গরম হ্রাস পায় নাই। কিন্তু এই সীমাহীন গরমের উৎস কোথায়? একটু তলিয়ে দেখা যাক। 
বাংলাদেশের সর্বত্র একসময় জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো খাল-বিল, নদী-নালা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BIWTA) আওতাধীন নদী ও শাখা নদীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। তার বাইরে আরো ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার শাখা ও উপনদী রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)***  এই ২৬ হাজার নদ-নদী থেকে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৮০টি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমার মত বড় বড় নদীও আজ মৃত্যুর দিকে ধাবিত। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা বাঁধ ও আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশ প্রায় পানিশূন্য। এ কারণেই নদ-নদীর নাব্যতা সংকটে পড়েছে। 
অন্যদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী-খাল-পুকুর-জলাশয় ভরাট ও দখলীকরণে পানির প্রবাহমানতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ‘বাসাবাড়ি বা অফিস আদালতের সম্মুখে একটি প্রবাহমান খাল’ এর চেয়ে শান্তি আর কী থাকতে পারে? অথচ স্লুইসগেট, কালভার্ট ও বাঁধ দিয়ে হাজার হাজার খাল বিল বিলুপ্ত করা হলো। সেখানে নির্মিত হয়েছে অট্টালিকা, প্রাসাদ, দালানকোঠা এবং রাস্তাঘাট। উত্তাপ তো লাগবেই। 
প্রচণ্ড গরমের উৎস তো এখানেই। আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ প্রতিবেশে এজন্যই মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল শহর দিয়ে একসময় প্রবাহিত ছিলো অসংখ্য খাল ও নহর। মানুষ খাল দিয়েই নৌকা বা ট্রলারযোগে যাতায়াত করত। সেগুলো আজ স্মৃতিমাত্র। সেইসব খরস্রোতা খাল খুমিয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। দেশের ৬৪টি জেলা শহর দিয়ে প্রবাহমান খালগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে ৬৪টি ভেনিস শহরের পয়দা হতো এই দেশে। কিন্তু অদূরদর্শী চিন্তাচেতনা ও সুস্থির পরিকল্পনার অভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসপ্রায়।
প্রচণ্ড তাপমাত্রার আরেকটি কারণ বণাঞ্চল হ্রাস পাওয়া। একসময় সারা দেশই ছিলো ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। মানুষের হিংস্র আচরণে উজাড় স্বাপদসংকুল বনজঙ্গল। গাছপালা, বৃক্ষ, উদ্ভিদরাজি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বনখেকো নাগরিকদের কারণে দেশে মরুকরণ শুরু হয়েছে।
প্রচণ্ড গরম, উত্তাপ, তাপমাত্রা সহ্যসীমার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই নদী খাল পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষন করতে হবে। একই সাথে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে বৃক্ষরোপন প্রক্রিয়া জোরদারের পাশাপাশি বনাঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। 
 এ কথা সর্বজনবিদিত যে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার না থাকলে সুন্দরবন তার অস্তিত্ব টিকাতে পারবে না। আর সুন্দরবন না থাকলে বাংলাদেশের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সুন্দরবন না থাকলে হয়ত সিডরের রাতেই বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হত। প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে জন্ম নেয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত বাংলাদেশকে রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। 
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নামে এই সুন্দরবনের ধ্বংস কারও কাম্য নয়। বিদ্যুৎ কারখানা বহুত বানানো যাবে; কিন্তু সুন্দরবন কোনো মানুষের পক্ষে সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। দেশে আরও বহুত জায়গা পড়ে আছে। সেখানে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কারখানা স্থানান্তর করা যেতে পারে। তাছাড়া ওই ভারতীয় কোম্পানিকে স্বয়ং ভারত সরকারই ভারতের কোথাও অনুমোদন দেয়নি বিদ্যুৎ কারখানা বানাতে। বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনার দাবি রাখে।
বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক অনেক বেশি। মালদ্বীপ, টুভাল, টুবাগো-এদের সবার ক্ষেত্রেই এই সবগুলো মানদন্ডই কার্যকর নয়। তাছাড়া মালদ্বীপের মোট জনসংখ্যা বাংলাদেশের অনেক জেলার জনসংখ্যার চেয়েও কম। তাই এই চারটি মানদন্ডেই বাংলাদেশ, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় শীর্ষে। 
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ-এর ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (CRI) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই সমীক্ষা চালানো হয় ১৯৯০ থেকে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৯৩টি দেশের উপর। উল্লেখ্য, উক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত ২০০৭ এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ।  মানব বন্ধনে এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা। মানব বন্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শি্ক্ষার্থীরা অংশ নেন।


Designed & Developed by TechSolutions Plex Ltd.