নামাজও পবিত্র কোরআন পড়ে কারাগারে দিন কাটছে খুরশিদা কমিশনারের
মো:আকাশ মিয়াজী | ১২:২১ মিঃ, মার্চ ২৩, ২০১৮
একেমন দুনিয়া? একেমন জগত? একেমন সিআইডি পুলিশ কর্ততা? অপরাধ না করেও যার মিথ্যা চার্জশিটে হয়ে গেলো অপরাধী। সিআইডির মিথ্যা প্রতিবেদনে নিপরাধ আমার মা থাকছে কারাগারে, কান্না জড়িত কন্ঠে এমন কথা বললেন- তাঁর একমাত্র মেয়ে।
ঘটনার বিবরনে জানাযায় চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কোয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের রুপসি স্ত্রী, তানিয়ার বেগম পাশের ঘড়ের রাসেল নামের এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
তানিয়া ও রাসেল দুইজনে সমাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন।
এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে লোক লজ্জার ভয়ে তানিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে হাজীগঞ্জ থানার অধিবাসি তানিয়ার পিতা
মো: আবুল হোসেন বাদি হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ২৮/৪/১১ইং তারিখে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং ৩০/।
দায়ের কৃত মামলা কচুয়া থানার ওসি তদন্ত করে চাঁদপুর কোর্টে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন " তানিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলার বাদি চাঁদপুরের আদালতে নারাজি দেন এবং পুনরায় মামলাটির তদন্ত চায় । বাদির নারাজি আদালত গ্রহন করে মামলাটির সিআইডিতে হস্তান্তর করেন।
সিআইডির ঘুষখোর অফিসার তৎকালিন কচুয়ার পৌরসভার ১.২.৩. ওয়ার্ডের মহিলা কমিশনার খুরশিদা আক্তার,ও কতিপয় আরেক যুবকে অন্তরভুক্ত করে মোট ১০ জনকে আসামী করে চাঁদপুর কোর্টে প্রতিবেদন দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন মামলাটি চাঁদপুর দায়রা জজ আদালতে চলমান ছিলো। একপর্যায় খুরশিদা কমিশনারের অনুপস্থিতে আদালত তাঁর বিরুদ্বে ওয়ারেন্ট জারি করেন।
খুরশিদা কমিশনার ঐ মামলায় আদালতে আত্মসর্মপন করে জামিন চাইবেন এমন মনভাব এলাকায় প্রকাশ করলে। এলকার কিছু টাউট, বাটপারের কারনে তিনি আর আত্মসর্মপন করেনি।
পরে গত ৩০/ ৩/ ২০১৭ইং তারিখে চাঁদপুর জেলা দায়রা জজ খুরশিদা কমিশনারসহ- ৫ জনের বিরুদ্ধে যাবতজীবন সাজাপ্রদান করেন।
এদিকে জেলে থাকা সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামী ন্যায় বিচারে পাওয়ার আসায় উচ্চ আদালতে আপীল করেন গত১০/ ৮/ ২০১৭ ইং তারিখে উচ্চআদালত ৪ জনকে জামিন প্রদান করেন।
খুরশিদা কমিশনার মামলার শুরু থেকে কোন রকম আইনী লড়াই করেনি। গত ২৩ অক্টোবর তিনি চাঁদপুর জজ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসর্মপন করে- জামিন চাইলে , এসময় খুরশিদা কমিশনারে উদ্দেশ্য উক্ত মামলার বিচারক মো: সালেহ উদ্দিন বলেন- যেহেতু আমি রায় প্রদান করেছি, তাই আমার জামিন দেয়ার এখতিয়ার নাই, আপনি জেলে চলেন যান।
ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় বর্তমান মহামান্য হাই কোর্টে মামলাটি আপীল করা হয়েছে যার নং ৫১০/ ২০১৮ ইং। এদিকে পবিত্র কোরআন শরীফ তেলোয়াত ও নামাজ পরে দিন কাটছে কচুয়া পৌরসভার সাবেক এই মহিলা কমিশনারের। তবে তাঁর মেয়ে আশাবাদী উচ্চআদালতে তাঁর মা ন্যায় বিচার পাবে।
