বঙ্গবন্ধু পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কালো তালিকাভুক্ত।
নিজস্ব প্রতিনিধি | ০২:০১ মিঃ, অক্টোবর ৭, ২০২০
বঙ্গবন্ধু পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কালো তালিকাভুক্ত।
কোরিয়া থেকে সংবাদদাতা দেশ বিরোধী নানান কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রানার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান প্রাইম ট্রাভেলসকে কোরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কালো তালিকা ভুক্ত করে। সিদ্দিক রানা দক্ষিণ কোরিয়ার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে কোরিয়ান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
করোনার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোরিয়াতে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি ইপিএস কর্মী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পেশার মানুষদের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে রানার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের অনুমতি না দেওয়ার আগেই প্রাইম ট্রাভেলস শত শত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক মার্কেটিং করে শত শত মানুষদের কাছ থেকে টিকেটের অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। জানা যায়, বিষয়টি সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টিগোচর হলে দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সর্তক করে। এতে রানা ক্ষিপ্র হয়ে দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের নানান প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে। এমনকি দূতাবাসের নামে কোরিয়ার পুলিশ বিভাগে মামলা করারও হুমকি দেন। এমতাবস্থায় দূতাবাস রানার প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কালো তালিকাভুক্ত করে। কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার খবর কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ জানার পর রানাকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
আবু বক্কর সিদ্দিকি রানা মানব পাচারের দায়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিংগাপুরে জেলে ছিলেন। সিঙ্গাপুরের রয়্যাল পুলিশ ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে আবু বক্কর সিদ্দিক রানাকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে। পরে ২০০১ সালে থেকে তিনি কোরিয়াতে বসবাস শুরু করেন। তিনি কোরিয়াতে একজন বিশিষ্ট হন্ডি ব্যবসায়ী হিসাবেই পরিচিত। ২০১৪ সালের পর থেকেই তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে সেটি সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক নেতার মাধ্যমে পরিষদটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক সহ দক্ষিণ কোরিয়ার সভাপতির পদটি তিনি বাগিয়ে নেন। অথচ তার পড়াশোনা এইচএসসি পর্যন্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশীদের মধ্যে রানার অপকর্ম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
