ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসে হাইকমিশনে আলোচনা সভা বশির আহমেদ ফারুক মালয়েশিয়া প্রতিনিধীঃ
এস এম রুবেল ব্যুরো চীফ রাজশাহীঃ | ০৯:৪২ মিঃ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
মালয়েশিয়াস্থঃ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মান্যবর হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন দুতালয় প্রধান ওয়াহিদা আহমেদ, কাউন্সেলর শ্রম মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, কাউন্সেলর (বানিজ্যিক)মো রাজিবুল আহসান, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মো মশিউর রহমান তালুকদার , প্রথম সচিব মাসুদ হোসেন এবং প্রথম সচিব রুহুল আমিন। কাউন্সেলর (শ্রম ২) মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ কারণ সাইবার স্পেস তথা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ধরনের মিথ্যা, বিকৃত ও অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশন এবন শেয়ার করা হয় যা আমাদের জীবনে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, লেখার বা আপলোড করার চেয়ে শেয়ার দেওয়ার হার বেশি এবং অতি সহজে শেয়ার দেয়া যায় এবং সত্য মিথ্যা যাচাই করা হয় না। তিনি এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বারোপ করেন। কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। এখন সময় এসেছে তথ্যের সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ জন্য ব্যক্তি বিশেষের সচেতনতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং এক সচেতন ব্যক্তি দশজনকে সচেতন করতে পারে। বাংলাদেশ হাইকমিশন অনেক কাজ করছে এসবের পরিবর্তে অপপ্রচার, প্রপাগান্ডা বেশি দেখা যায়। এরফলে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ জন্য আমাদের সকলকে সচেতনভাবে সঠিক তথ্য পরিবেশন করতে হবে যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। মান্যবর হাইকমিশনার মহ শহীদুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম বিদেশস্থ মিশনসমূহকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উদযাপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বিদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সরকারের অর্জিত সাফল্য ব্র্যান্ডিং ও প্রচার করা।বর্তমান সরকারের ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ তথা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মানের তথা বাংলাদেশকে উন্নত করার ঘোষণা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর ৪টি ভিত্তি- কানেক্টিভিটি, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন, ই-গভর্ন্যান্স এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন এ সকল সেক্টরেই বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে যা প্রবাসে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিক এবং বিদেশীদের নিকট তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে সরকার। তিনি বলেন, সাইবার সুবিধা একদিকে যেমন তথ্যের প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে অপরদিকে এর অপব্যবহার আমাদের জীবনে, সমাজে ও রাষ্ট্রে নানান ধরনের বিপত্তি সৃষ্টি করেছে। ফলে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে আইন হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে মন্দকে দূর করা বা প্রতিহত করা যায়। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির মাধ্যমে সাইবার সুবিধাকে জীবনের জন্য, শান্তির জন্য এবং আগামীর জন্য কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন তথ্য সন্ত্রাস করার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে সাইবার জগত। এ সন্ত্রাস মোকাবিলা না করে ছেড়ে দিলে দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে অনেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, দূতাবাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ সকল বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সজাগ আছে।মালয়েশিয়া সরকারও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার প্রতিরোধে কঠোর আইন করেছে। আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে তথ্য সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে হবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে বেশ কয়েকটি গ্রুপ, পেইজ এবং ব্যক্তি নানান ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিরুপ প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানের এক বৈঠকে সাইবার ক্রাইম বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।
