ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ- সভাপতি রসির বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিনিধি। নোয়াখালী | ০৯:৩৩ মিঃ, জুলাই ৩০, ২০১৯
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগর প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হচ্ছেন শাহাদত হোসেন রসি। রসি সদরের ০৯ নং কালাদরাপ ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের শাহ আলম মিয়ার বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছোট ছেলে। ঐ অঞ্চলে বিএনপি, জমাতের নেতৃত্বদান কারী প্রভাবশালী বাড়ির মধ্যে শাহ আলম মিয়ার বাড়ী অন্যতম। রসি বাবাও এক সময় বিএনপি'র নেতৃত্ব দিতেন।তার বড় ভাই এখনও বিএনপির সাথে জড়িত। ঐ এলাকায় একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে শাহ আলম মিয়ার বাড়ীতে নৌকার এক ভোট ও নেই।
'রসি' পড়া শুনা বেশী দূর না যেতে পারলেও মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসাবে এলাকায় বেশ পরিচিত। জানা যায় গৌরীপুর এলাকায় স্থানীয় সংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর বাবার নামে "হাজী ইদ্রীস স্মৃতি সংসদ" স্থাপন করে সেখানে প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবন ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি পরিচালনা করতো। বিভিন্ন ভাবে স্থানীয় সংসদ রসি'র এসব অপকর্মের খবর পেলে তার বিরুদ্ধে একশন নেন এবং ঐ সংসদ ঘর বন্ধ করে দেন। রসি এমপি একরাম চৌধুরী'র উপস্থিতি তে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে গেলে এমপি একরাম কয়েক শত নেতা কর্মীর সামনে তাকে ইয়াবাখোর, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ বলে পুলিশকে দিয়ে অফিস থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।
গত কিছু দিন আগে তার অনুসারী তার চাচাত ভাই শাকিল দেশী অস্র ও ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয় রসি'র ঘর থেকে। এ ঘটনার পর
রসি পালিয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং সেখানে ইয়াবা সেবন করা অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হয়ে কয়েক দিন জেল হাজতে থাকার কথাও জানা যায়।
এছাড়াও দাদপুর, কালাদরাপ, চরমটুয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে এই 'রসি' এমন অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় ইউ'পি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন- হঠাৎ করে 'রসি' কিছু দিন আগ থেকে ছাত্রলীগ করছে, তার অপকর্মের কথা সবাই জানে আমি তাকে কখনো আমার দলের মনে করি না, সে কিভাবে পদে আসে আমার জানা নাই। আরেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীগীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন- রসি'র পরিবার অথবা বাড়িতে কেউ আওয়ামীলীগ করে বা করছে প্রমাণ দিতে পারবে না। তার ইয়াবা ব্যবসা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজীর কথা সবাই কম বেশী জানে। সে কিভাবে জেলার পদ পায় তা জেলা ছাত্রলীগ জানে।
অনুসন্ধানে জানা যায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে তার বন্ধুত্বের সূত্রে তাকে পদ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
আরো জানা যায় উক্ত প্রস্তাবিক কমিটির আরেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন সৈকত বেগমগঞ্জের কুখ্যাত রাজাকার চান তারা বসুর নাতী।
জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এমন একাদিক বিতর্কিত ব্যক্তির নাম প্রকাশিত হওয়ায় পুরা জেলার সাধারণ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মনে হতাশা ও ক্ষোভ জমাট বাঁধছে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
অভিযোগ সম্পর্কে রসির কোন মতামত জানা যায়নি।
