রাসুল (সা.) যেভাবে পথ চলতেন
ইসলাম ডেস্ক | ০৭:৫৪ মিঃ, জুলাই ১৩, ২০২৩
মানুষকে দৈনন্দিন কাজে ঘরের বাইরে যেতে হয়। এই বাইরে যাওয়া ও রাস্তায় চলাচল যদি হয় সুন্নত পদ্ধতিতে, তাহলে তার বিনিময়ে অফুরন্ত সওয়াব পাওয়া যায়। নিম্নে রাস্তায় চলার কয়েকটি আদব ও শিষ্টাচার তুলে ধরা হলো—
ডান দিকে চলা : নবীজি (সা.) প্রত্যেক উত্তম কাজে ডান দিককে প্রাধান্য দিতেন। তাই রাস্তায় চলার সময় ডান দিকে হাঁটা সুন্নত।
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) পবিত্রতা অর্জন, জুতা পরিধান এবং চুল আঁচড়ানোতে সাধ্যমতো ডান দিক থেকে শুরু করতেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৮০)
কিন্তু ড্রাইভ করার সময় যেহেতু বাম দিকে ড্রাইভ করা আমাদের দেশের নিয়ম, তা-ই তা পালন করতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে।
দৃষ্টি অবনত রাখা : রাস্তায় গেলে দৃষ্টি অবনত রাখা।
অর্থাৎ মহান আল্লাহ যেদিকে তাকানো হারাম করেছেন, সেদিকে না তাকানো। কারণ তা না হলে মানুষ অনেক ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। কেউ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ইভ টিজিংয়ে জড়ায়। কেউ আবার বিকৃত রুচির কারণে গোপনে নারীদের যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করে।
এ কারণেই পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩০)
কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা : রাস্তা-ঘাটে মানুষের জন্য কষ্টদায়ক হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। যেমন: ধুমপান করা, কাউকে গালাগাল করা।
রাস্তায় ময়লা ফেলা, পেশাব-পায়খানা করা ইত্যাদি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুটি অভিশপ্ত কাজ থেকে দূরে থাকবে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, অভিশপ্ত কাজ দুটি কী, হে আল্লাহর রাসুল? নবী (সা.) বলেন, ‘মানুষের যাতায়াতের পথে অথবা (বিশ্রাম নেওয়ার) ছায়াবিশিষ্ট জায়গায় পেশাব-পায়খানা করা।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫)
সালাম বিনিময় করা : সালাম এক মুসলমানের সঙ্গে অপর মুসলমানের সদ্ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম ওই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৯৭)
এ কারণে রাস্তা-ঘাটে চলাফেরার সময় সবাইকে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কেউ সালাম দিলে তার সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। অনেক সময় আমরা কেউ সালাম দিলে তার সালামের জবাব না দিয়ে চলে যাই। এটি সরাসরি আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করার নামান্তর। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হবে তখন তোমরা তার চেয়ে জবাব সালাম দেবে। অথবা জবাবে তা-ই দেবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে পূর্ণ হিসাবকারী।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৮৬)
সৎ কাজের আদেশ দেওয়া : রাস্তা-ঘাটে চলাফেরার সময় প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব হলো সৎ কাজের আদেশ করা। মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০৪)
